Loading...

ক্লকওয়াইজ ভাসমান

Support Us or Donate Some Love for Us



কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর অয়ন বুঝতে পারলো এই জায়গাটা আমাদের পৃথিবীর মতই, ভিন্ন কোনো জায়গা না। হঠাৎ সে দেখলো তার চারপাশে গোলাকৃতির কোনো বস্তু ভাসছে। সে বুঝতে পারলো না এগুলো আসলে কি। একটা বস্তু স্পর্শ করতেই সে বুঝতে পারলো এটা পানি। কারণ একমাত্র পানিই ভাসমান অবস্থায় এমন গোলাকার দেখায়। কিন্তু পানি কেবল সেই স্থানেই গোলাকৃতির হয়ে ভেসে বেড়ায় যেখানে মহাকর্ষ বল শূন্য। কিন্তু এখানে যদি মহাকর্ষ বল শূন্য হয় তবে সে এমন স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছে কিভাবে? তারও তো এই নিয়ম অনুযায়ী ভাসা উচিত। এই ব্যাপারটাই তাকে চিন্তিত করে তুললো। সে দেখলো কয়েকটা বাচ্চা ছেলে দৌড়াচ্ছে আর গোলাকার পানির কণাগুলো বলের মতো করে খেলছে। সে বুঝলো বাচ্চারা পানির কণাগুলোকে খেলার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে।

অয়ন এবার সামনে এগিয়ে গেল। দেখলো কয়েকজন মানুষ কিছু ভারি বস্তুকে অনায়াসে বহন করে বেড়াচ্ছে। এখানে আসল প্রশ্ন একটাই, বস্তু, পানি এসব মহাকর্ষ বলমুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাহলে মানুষ কেন ভেসে বেড়াচ্ছে না? বস্তু ভাসলে মানুষেরও ভাসার কথা। অয়ন দেখলো সামনে একটি বাড়ি তৈরি হচ্ছে সেখানে ইট, সিমেন্ট এসব মহাকর্ষ বলমুক্ত বলে ভেসে উপরে উঠে যাচ্ছে আর মানুষ সেগুলোকে উপর থেকে নিয়ে কাজ করছে। ভারি বস্তুকে কষ্ট করে বহুতল ভবনের উপরে নিয়ে যেতে হচ্ছে না। বরং বস্তুগুলোই ভেসে উপরে চলে যাচ্ছে। বিষয়টা অদ্ভুত হলেও তা অয়নের বেশ ভালো লাগলো। কারণ এটা যেভাবেই হোক মানুষের কষ্ট লাঘব করছে। অয়ন আবার হাঁটা শুরু করলো। 

এবার অয়ন সেখানকার বাজারে প্রবেশ করলো। সেখানেও একই দৃশ্য দেখলো। লোকজন বাজার থেকে জিনিস নিয়ে ব্যাগে ঢুকাচ্ছে। তারপর ব্যাগটা শুধু একটা আঙ্গুল দিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এখন আঙ্গুল দিয়ে ধরার উদ্দেশ্য একটাই, যাতে ভাসতে ভাসতে ব্যাগটা হারিয়ে না যায়। কিন্তু এখানে আরেকটা প্রশ্ন হলো- বস্তু যদি ভাসবেই তাহলে মানুষ তার ভর নির্ণয় করবে কিভাবে? মনে এসব প্রশ্ন নিয়ে সে পুনরায় হাঁটা শুরু করলো।

এবার সে একটা রেস্তোরায় প্রবেশ করলো। সেখানে ঢুকে সে দেখলো ওয়েটাররা খুব সহজেই ভারি খাবারের প্লেট বহন করছে যেন তাদের প্লেট পড়ে যাবার কোনো ভয়ই নেই। তৃতীয় প্রশ্ন হলো মহাকর্ষ বল মুক্ত হলে খাবার কিভাবে রান্না হবে? খাবারে তাপ প্রয়োগই বা কিভাবে হবে? কড়াইয়ে কোনো খাবার রেখে রান্না করতে গেলেই তো সেটা ভেসে উপরে উঠে যাবে। অয়ন আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলো ওয়েটারের হাতের প্লেটগুলো ভাসছে, কিন্তু খাবার গুলো স্থির আছে। আবার প্লেটগুলো যখন খাবার টেবিলে রাখা হচ্ছে তখন তা স্থির হয়ে থাকছে। অয়ন রেস্তোরা থেকে বেরিয়ে এলো।

এসব কিছু দেখার পর সে বুঝলো যে কিছু একটা আছে যা এই মহাকর্ষ বলটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানকার মানুষ মহাকর্ষ বলকে তাদের সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করছে। হঠাৎ একটি লোক অয়নের দিকে এগিয়ে এলো।লোকটি অয়নকে বললো

-আপনি কি কাওকে খুঁজছেন?

-না, কাওকে খুঁজছি না। তবে আমার এই চারপাশের বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিলো।

-কি প্রশ্ন বলুন। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

অয়ন একে একে তার মনের সব প্রশ্ন করে ফেললো। লোকটি বললো- আসলে আমাদের এই শহরে মহাকর্ষ বলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এই নিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা সব মানুষের রয়েছে। যেকোনো মানুষ তার সুবিধা অনুযায়ী মহাকর্ষ বলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সবার কাছে মহাকর্ষ বল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি বিশেষ কন্ট্রোলার রয়েছে। এটা দ্বারা কেবল সেসব বস্তুই মহাকর্ষ বলমুক্ত হবে যে বস্তুর সাথে এটি লাগিয়ে একবার ক্লকওয়াইজ ঘুরানো হবে। আবার বস্তুটি মহাকর্ষ বলযুক্ত হবে যদি কন্ট্রোলারটি বস্তুর সাথে লাগিয়ে অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ ঘুরানো হয়। পানির ক্ষেত্রে যে পাত্রের পানি ভাসমান করা হবে সেই পানির মধ্যে এই কাজ করলে পানির কণাও মহাকর্ষ বলমুক্ত হয়ে যায়। অয়ন তো এই অভিনব প্রযুক্তির কথা শুনে হা করে লোকটির দিকে তাকিয়ে থাকলো। হঠাৎ কে যেন অয়নকে পিছন থেকে গায়ে হাত দিয়ে ডাকলো। অয়ন চোখ খুলে দেখলো তার মা তাকে ঘুম থেকে ডাকছেন।