Loading...

প্লিডিস এর উপকথা

Support Us or Donate Some Love for Us



তারাদের সাথে আমার কথা হয় চুপচাপে। প্লিডিস ক্লাস্টারের সাতটি তারার সাথে বিড়বিড় করে কুশল বিনিময় করে নিই প্রথমেই। দূরালাপন ব্যতীত এ ধরনের কথোপকথন সচরাচর দেখা যায় না। সুস্থ মস্তিষ্কের সকল প্রাণী আমাকে পাশ কেটে যায়। মাঝে মাঝে দু’ একটা আগন্তুক ক্ষানিক থেমে জিজ্ঞেস করে, পাগল নাকি? কতদূর গুনলেন? এসব। আমি সাহারার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেই। সাতবার জন্ম নিলে বোধয় সাহারার সকল বালিকনা গুনে শেষ করা যাবে। সাত বিলিয়ন বার জন্ম নিয়ে তারা গুনে শেষ করতে পারবেন কিনা আমি অনিশ্চিত। আমি পুনঃরায় আমার ছন্দে ফিরে আসি, তিন হাজার ছয়শ’ বত্রিশ… তিন হাজার ছয়শ’ তেত্রিশ…তিন হাজার ছয়শ’ চৌত্রিশ…

এবার আসি প্লিডিস এর কথায়

হাজার বছর আগে যখন মানুষেরা আলোর জন্য আগুন ব্যবহার করতো তখন তারাদের সাথে আমাদের মিতালি গভীর  ছিলো! তখন এই ইলেকট্রইক্স বেসিস  যুগ ছিলো না। আজকের মানুষ যেমন ন্যানো টেকনোলজির স্বপ্নে বিভোর তখন তারা ওই আগুন আর পাথরেই নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াই করতো

হাজার হাজার যুগ ধরে আমরা নক্ষএদের এমন ভাবে দেখে আসছি যেন তাদের উপর আমাদের জীবন নির্ভর করতো

তেমনটা যে হোতো না সেটাও তো নয়! আর আমরা করতামি বা কি ” আমরা মানুষেরা না সেই জীবজন্তু গুলো থেকে বড় ছিলাম,না ছিলাম শক্তিশালি কিন্তু একটা জিনিস আমাদের আয়ত্তে ছিলো আমাদের মস্তিষ্কের প্যাটান চিনে ফেলার শক্তি!যেহতু  প্রতি রাতে আমরা আকাশের তারা লক্ষ্য করতাম আর সময়ের সাথে সাথে আমাদের পূর্বপুরুষ দের মনে হতে থাকে তারাদের অবস্থার পরির্বতনের সাথে সাথে পৃথিবীর উপরে ঘটে যাওয়া সেই পরির্বতন গুলোর ভবিষৎ বাণী করা যায়, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে নইলে বেঁচে থাকার আশা!তখন এমনি যুগ ছিলো যখন কল্পনার জমিন থেকেই কাহিনি তৈরি হতো। তখন না টিভি ছিলো না মুভি বা কোন ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম!সকল সভ্যতার মানুষই নিজেদের মতো করে এই তারাদের নিয়ে নিজের মতো ছবি তৈরি করে নিয়েছিলো!এই ছবিগুলো একপর্যায়ের গল্প কাহিনির পৃষ্টায় পরিনত হয়ে গিয়েছে!আর যদি লক্ষ্য করা যায় এরা আমাদের জিবনের কাহিনিও বর্নণা করে! এদের মধ্য থাকা দেবতা, হিরো, কৃষিকাজ ব্যবহৃত পশু ও জানা-অজানা যে বিষয় খোঁজা গিয়েছিলো সেটা প্রতিটি সভ্যতায় আলাদা আলাদা ছিল!

কিন্তু তারাদের একটা মন্ডলী আকাশে আলাদা দৃষ্টিপটে এসে থাকে! আর তা হলো প্লিডিস!

রাতের আকাশে আমার অন্যতম প্রিয় ওপেন ক্লাস্টার Pleiades বা কৃত্তিকা নক্ষত্রমণ্ডলী। পৃথিবী হতে দুরত্ব প্রায় ৪৪৪.২আলোকবর্ষ।

এটিকে উত্তর গোলার্ধের সর্বাঞ্চলে ও দক্ষিন গোলার্ধের উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় সারা বছরই দেখা যায় ।

গ্রীক শব্দ plein থেকে pleiades নামকরন করা হয়েছে, যার অর্থ হল পাল!এটা প্রায় ১০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিলো! এটার সকল তারা সূর্য থেকে ৪০গুন বেশি উজ্জল! কিন্তু এলচিয়োনি সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটা সূর্য থেকে ১০০০ গুন বেশি উজ্জ্বল! অনেক যুগ ধরে এই তারা গুলো দিয়ে মানুষের চোখের সুস্থতা লক্ষ্য করা হতো! যারা খালি চোখে ৬টা দেখতে পেতো তাদের চোখ ঠিক আছে ধরা হতো! ৭ কিংবা অধিক তারা দেখতে পাওয়া মানুষদের যোদ্ধা কিংবা সিপাহি অথবা জাসুস বানানো হতো!

প্লিডিস কে নিয়ে দুনিয়া জুড়ে আমাদের পুর্বপুরুষেরা সব রোমাঞ্চকর কাহিনি গঠন করেছে!

আজ তেমন একটা ব্যপারে লেখা এই বিষয়টা!

ব্রিটিশ আইলস্ট এর কেল্টস আর ড্র্রুইস্ট লোকেরা এগুলোর সাথে ভূত-প্রেত দের জুড়ে দেখতেন!বছরের যেদিন এ তারাগুলো মধ্যরাতে আকাশের সবচেয়ে উপরে উঠতো সেদিন মানা হোতো মৃতদের আত্তা পৃথিবীতে নামে। এ উৎসবটাকে কখনো সাউইন বলা হতো কিন্তু এখন হ্যালোইন বলা হয়!

উওর আমেরিকার কায়বা জনগোষ্ঠীর অনুযায়ী এটার অর্থ এরকম ছিলো –

একদিন রাতে তাদের জনগোষ্ঠীর কিছু মেয়ে তারাদের মোলিন আলোয় নাচার জন্য তাদের থাকার জায়গা থেকে কিছু দূরে  চলে যায়! তারা সেখানে মাঝরাত পর্যন্ত তারাদের দৃশ্য ও সেখানে নাচার মধুর অবস্থার অনুভুতি নিতে থাকে! কিন্তু হঠাৎ কয়েকটা বিশাল আকারের ভাল্লুক তাদের উপর আক্রমন করে! তারা সবাই দৌড়ে কাছাকাছি থাকা একটি ভুমি আকৃতির ছোট পাথড়ে চড়ে! ভাল্লুকরা তাদের দিকে আসতেই থাকে! তাড়া ভয় পেয়ে ভূমির কাছে প্রার্থনা করে! ভূমি তাদের উপর দয়া করে ফলে সে উপরের দিকে উঠে যায়! ওই মেয়েগুলো পড়ে প্লিডিসের তারা হয়ে যায়। এগুলো সেই তারা যেগুলো শীত কালে সেই পাহাড়ের উপরে নজরে আসে এবং যে পাহাড়টি তাদের সাহায্য করে তাকে ডেভিল্স টাওয়া রুপে বর্তমানে আক্ষায়িত করা হয়!

প্রাচীন গ্রিক এর এথেন্স এর মানুষ রাক এ তারাদের নারী অবতার এ ভাবতো!

তাদের আ্যাটলাস এর সাতমেয়ে ভাবা হতো। যাদের পিছনে ভাল্লুক নয়, ওড়ায়ান নামের একটি শিকারি পড়ে গেছিলো! একদিন ঘুরতে বেড়িয়ে তার নজর সেই মেয়েগুলোর উপর পড়ে! ওড়ায়ান তাদের পেতে চেয়েছিলো!৭ বছর ধরে সে তাদের তাড়া করে! এমন অবস্থায় মেয়েগুলো যখন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা দেবতাদের রাজা জিউস এর কাছে সাহায্য চায়! জিউসের সেই মেয়েগুলোর উপর সহানুভূতি আসে! এতে করে সে তাদের কে কবুতর বানিয়ে দেন যাতে এরা পালিয়ে যেতে পারে। ওরা আকাশে উড়ে পালিয়ে যায় এবং আকাশে তারা হয়ে অবস্থান করে।

এরাই প্লিডিসের তারাতে পরিনত হয়ে যায়!

তথ্যসূত্র –

https://en.wikipedia.org/wiki/Pleiades

http://earthsky.org/favorite-star-patterns/pleiades-star-clust