Loading...

ব্লাকহোল

Support Us or Donate Some Love for Us



 বিজ্ঞানপ্রেমিদের কাছে কৌতুহলের আরেক নাম ব্লাকহোল।

ব্লাকহোলের শাব্দিক অর্থ হলো কৃষ্ণগহ্বর বা কালো গহব্বর। আমাদের ভ্রমান্ধে অসংখ্য ছায়াপথ আছে। এই ছায়াপথের রয়েছে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র। একেক নক্ষত্র সাধারনত একেক ধরনের জ্বালানি ব্যাবহার করে থাকে। যদি জ্বালানি কোনোদিন শেষ হয়ে যায় কি হবে? হ্যা, সেটাই ব্লাকহোলে পরিণত হয়। তারমানে আমারা ব্যাকহোল কে বলতে পারি কোনো একটি তারার সর্বশেষ অবস্থা বা দশা। এখন প্রশ্ন হলো কি এমন বৈশিষ্ট্য আছে যার জন্য এটিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখেন বিজ্ঞান কৌতুহলীরা? সাধারণত কোনো তারার নির্দিষ্ট একটি জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি তার কার্যক্ষমতা হারায় এবং আকারে আগের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে যায়। এ দশায় এই ওই তারাটির মহাকর্ষ আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বহুগুন এর পরিমান এতোটাই বেশি যে ব্লাকহোলের সামনে দিয়ে একটি আলোর কণাও যেতে পারে না, ব্লাকহোল তা নিজের মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে টেনে নেয়।

ব্লাকহোলের চারিদিকে রয়েছে ইভেন্ট দিগন্ত। যেটি মূলত ব্লাকহোলের সীমা চিন্হিতকারী একটি সীমানা।ইভেন্ট হরাইজন বা ইভেন্ট দিগন্ত ব্লাকহোলের চারিদিকে ঘুর্নায়মা। ব্লাকহোল থেকে যেহেতু আলোও নিস্তার পায় না তাই পৃথিবী থেকে এটিকে চিন্হিত করা একেবারেই অসম্ভব!  কেননা আমরা জানি আলো আমাদের চোখে এসে ধরা দিলে তবে আমরা সেই বস্তুকে দেখতে পারি। কিন্তু ব্লাকহোল থেকে তো সেই আলোর ফোটন কণাও রেহাই পায় না। তাহলে কি আমরা ব্লাকহোলকে দেখতে পারবো না? হ্যাঁ, পারবো!  আসলে ব্লাকহোল দেখতে পারবো না কিন্তু এর গঠন ঠিকই বুঝতে পারবো।এখন একমাত্র আশা হলো ইভেন্ট দিগন্তের হকিং রেডিয়েশন এর বিচ্চুরন। তো ২০১৭ সালেই পৃথিবীর সাতটি মহাদেশে স্হাপন করা হয় ৭টি  শক্তিশালী টেলিস্কোপ যা ইভেন্ট হরাইজন নামে পড়িচিত।

ফল পেতে বেশিদিন লাগেনি। ২০১৮ সালের ১০ ই এপ্রিল বিভিন্ন বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ এক ধরনের প্রগ্রামিং ব্যাবহার করে বানানো হয় মানুষের বোঝার উপোযোগী ব্লাকহোলের প্রথম ছবি। অদ্ভুত হলেও সত্যি সেটি আইন্সটাইনের দেওয়া ব্লাকহোলের আকার এর মতোই! আরো একটা আইনস্টাইনের থিউরী সত্য প্রমানিত হলো। বিশ্বভ্রমান্ধের প্রত্যেকটি ছায়াপথেই রয়েছে ছোট বড় ব্লাকহোল। দুটি ব্লাকহোল একত্রিত হলে সেটাকে বলা হয় ম্যাসিভ ব্লাকহোল। একটি ব্লাকহোলের তুলনায় ম্যাসিভ ব্লাকহোলের মহাকর্ষ বল আরো বেশি। প্রতিটি গ্যালাক্সিই কোনো না কোনো ব্লাকহোলকে কেন্দ্র করে ঘোরে।  যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি স্যাজিটেরিয়াস ম্যাসিভ ব্লাকহোলকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

তবে একটা প্রশ্ন আজও অজানা! ব্লাহোলের ভিতরে কি আছে? আলো ব্লাকহোলে প্রবেশ করার পর কোথায় হারিয়ে যায়, কোন অতল গহব্বরে তা কেউই জানি না তাই হয়তো এর নাম দেওয়া হয়েছে কালো গহব্বর। যে কালো গহব্বরের অমিমাংসিত রহস্য হয়তো কোনো দিনও উম্মোচন হবে না, তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে হয়তো হতেও পারে! ব্লাকহোলের নতুন কোনো তথ্য বিজ্ঞানপ্রেমিদের আরো কৌতুহলী করে তুলবে তা বলাই বাহুল্য!